আজ, ২৯শে রমজান, বিশ্বের বিভিন্ন স্থানেই মুসলিম সম্প্রদায় খতমে তারাবি সম্পন্ন করবে। এটি রমজান মাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা প্রতি বছর মুসলিমরা পালন করে থাকেন। মাসব্যাপী রোজা রাখার পর, এই শেষ তারাবির নামাজের মাধ্যমে রমজান মাসের উপসর্গ শেষ হয় এবং মুসলিমরা শাওয়াল মাসের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর উদযাপন করবে।
খতমে তারাবির শেষ দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে, কারণ এটি রমজান মাসের পূর্ণতা এবং ঈদের আগমনের প্রতীক। বিশ্বজুড়ে মুসলিম সম্প্রদায় আজকের দিনটি একত্রে নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর কাছে দোয়া করে রমজান মাসের বরকত ও ক্ষমা কামনা করবে।
মসজিদগুলোতে খতমে তারাবি শেষ করার পর মুসলিমরা নিজ নিজ পরিবার, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করবেন এবং ইফতারি শেষে ঈদের আনন্দ শুরু করবেন।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে আগামীকাল হবে মুসলিমদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব, যা শান্তি, ভালোবাসা এবং ঐক্যের বার্তা নিয়ে আসে।
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে খতমে তারাবি
প্রতিবছর রমজান মাসে সারা দেশে শুরু হয় খতমে তারাবি। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইসলামী আমল, যা প্রতি বছরের রমজান মাসে মুসলমানরা মসজিদে জামাতে তারাবি নামাজ পড়ার সময় পূর্ণ কোরআন তিলাওয়াত করেন। প্রথম তারাবির দিন থেকে শুরু হয়ে, ২৭তম তারাবির রাতে এক পূর্ণ খতম কোরআন শীর্ষক তিলাওয়াত সম্পন্ন হয়।
ইতিহাস:
খতমে তারাবির প্রচলন হযরত ওমর (রা.)-এর সময় থেকে শুরু হয়। রাসুল (সা.) তারাবি নামাজ জামাতে পড়ার জন্য উৎসাহিত করেছেন, যদিও তিনি নিজে নিয়মিত জামাতে পড়েননি, যাতে এটি ফরজ হয়ে না যায়। পরবর্তীতে খলিফা হযরত ওমর (রা.) সাহাবিদের সম্মতিতে কোরআন খতমসহ তারাবির জামাতের প্রচলন করেন। এটি তখন থেকে মুসলিম সমাজে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ফজিলত:
রমজান মাসে তারাবিতে পূর্ণ কোরআন খতম করা বিশেষ সওয়াব এবং মর্যাদার আমল হিসেবে পরিচিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি ঈমান ও ইখলাসের সাথে রমজানের তারাবি পড়ে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ হয়ে যায়।" (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম) রমজানে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুধু সাওয়াব অর্জিত হয় না, বরং এটি রাত্রিকালীন ইবাদত বা কিয়ামুল লাইলের অন্যতম শ্রেষ্ঠ অংশ।
বাংলাদেশে প্রচলিত রীতিনীতি:
বাংলাদেশের অধিকাংশ মসজিদে খতমে তারাবি ২৭তম রাতে সম্পন্ন করা হয়। কিছু মসজিদ ২৫তম রাতে খতম শেষ করে, তবে বড় মসজিদগুলোতে এক মাস ধরে খতমের আয়োজন করা হয়। খতম উপলক্ষে মসজিদগুলোতে বিশেষ দোয়া ও আলোচনা হয়, যা মুসল্লিদের ইবাদতের আনন্দ দ্বিগুণ করে।
নির্দিষ্ট কিছু মসজিদের কার্যক্রম:
যাত্রাবাড়ী মদিনা জামে মসজিদের ইমাম মাহমুদুল হাসান জানান, তাদের মসজিদে ২৭তম তারাবির রাতে খতম সম্পন্ন হবে। মসজিদে বিশেষ দোয়া-মুনাজাত ও আলোচনার আয়োজন করা হবে। একইভাবে, শাহবাগ রেলওয়ে জামে মসজিদের ইমাম আনিসুর রহমান বলেন, রমজান মাসে তারাবির পূর্ণ খতম করা বিশেষ সওয়াব এবং মর্যাদার আমল। অনেক হাফেজ এই সময়ে কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সারা বছর ধরে পড়ার সুযোগ লাভ করেন।
লক্ষীপুর জেলা কেন্দ্রীয় মসজিদের তারাবির ইমাম হাফেজ আব্দুল কাইয়ুম বলেন, “রমজান মাসে তারাবি পড়াতে পারা আমাদের জন্য খুবই আনন্দ এবং সৌভাগ্যের ব্যাপার। এতে আমাদের নিজেদের সম্পূর্ণ তারাবি পড়া হয় এবং পূর্ণ খতমও সম্পন্ন হয়।”
আজকের খতম শেষে, মুসল্লিরা রমজানের শেষ কয়েকটি দিন ইবাদত-বন্দেগিতে কাটাবেন, বিশেষ করে ২৭তম রাতকে শবেকদর হিসেবে গণ্য করে অনেকে সারারাত ইবাদতে মশগুল থাকবেন।