নিজস্ব প্রতিবেদক
[স্থান]: গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন ২৫ জন জেলে। পরিবারগুলোর জন্য এবারের ঈদ পরিণত হয়েছে অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তার এক যন্ত্রণাদায়ক অধ্যায়ে।
জানা গেছে, নিখোঁজ জেলেরা [তারিখ] তারিখে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সমুদ্রে গিয়েছিলেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও তারা এখনো ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা দিনরাত অপেক্ষায় থাকলেও কোনো খোঁজ মেলেনি। বিভিন্ন স্থানে তাদের সন্ধান চালানো হলেও এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের আহাজারি, ঈদের আনন্দ হারিয়ে গেছে
নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সদস্যরা চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। কারও স্বামী, কারও বাবা, আবার কারও ভাই ফিরে আসবে কি না, এই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে সবার মনে। ঈদের দিন যেখানে ঘর ভরে ওঠার কথা ছিল আনন্দে, সেখানে নেমে এসেছে নীরব শোক।
এক নিখোঁজ জেলের স্ত্রী জানান, “আমার স্বামী যখনই সমুদ্রে যায়, তখনই ভয় লাগে। এবার তো এক সপ্তাহ হয়ে গেল, কোনো খবর নেই। ঈদও এলো, কিন্তু ঘরে কোনো আনন্দ নেই।”
আরেকজন বৃদ্ধা মা জানান, “ছেলে ফিরে এলে তবেই ঈদ করব। তার আগে কিছুই ভালো লাগছে না।”
সন্ধান অভিযান অব্যাহত
স্থানীয় প্রশাসন ও কোস্টগার্ড নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকার কারণে উদ্ধারকাজ কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে তাদের উদ্ধারের জন্য।
এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, “আমরা বিভিন্ন জায়গায় অনুসন্ধান চালাচ্ছি। উপকূলীয় এলাকাগুলোতেও খবর পাঠানো হয়েছে, যাতে নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়।”
নিখোঁজ এই জেলেরা হলেন - আবু কালাম (৬০), মজিবর চাপরাশি (৪৫), ইউসুফ আলী (৩৫), মো. জাফর (৩৫), আব্দুস সত্তার (৬৫), নাদিম (২০), মো. বেল্লাল (২৫), মো. ইয়াসিন (২৫), আউয়াল বিশ্বাস (৪৮), সফিকুল ইসলাম (৪০), মো. ফারুক (৩৫), আব্দুল খালেক (৫০), মো. নান্টু মিয়া (৩৫), মাহতাব (৪৫), সিদ্দিক মৃধা (৪৩), কালু মিয়া (৪০), মো. মনির হোসেন (৪৫), সহিদুল ইসলাম (৪০), মো. সুবাহান খাঁ (৭১), মো. ইউনুস সরদার (৭৩), মো. খলিল (৬১), আব্দুর রব (৬০), মো. আল আমিন (৩৫), মো. লিটন (৪১) ও মো. কালাম (৩৬)।
সহায়তার আহ্বান
নিখোঁজ জেলেদের পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা তাদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন। তবে পরিবারগুলোর দাবি, দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা বাড়ানো হোক এবং তাদের জন্য জরুরি সহায়তা প্রদান করা হোক।
পরিবারগুলোর একটাই চাওয়া— তাদের স্বজনরা সুস্থ ও নিরাপদে ফিরে আসুক। ঈদের খুশির বদলে শোকগ্রস্ত এসব পরিবার এখন শুধু অপেক্ষার প্রহর গুনছে।