পলাতক চক্রের ষড়যন্ত্র? অধ্যাপক ইউনূসের শান্ত কণ্ঠে এক সতর্ক বার্তা
📅 প্রকাশিত: ৪ এপ্রিল, ২০২৫
“একটি পলাতক দল সর্বাত্মক চেষ্টা করছে আমাকে আনসেটেল করার জন্য” — সম্প্রতি বিবিসি বাংলাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনই মন্তব্য করেছেন নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। কথাটা হয়তো ছোট, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক গভীর উদ্বেগ, এক নির্মম বাস্তবতা।
এই বক্তব্যটি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন অধ্যাপক ইউনূস বাংলাদেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিমণ্ডলে একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। তার বিরুদ্ধে চলছে একের পর এক মামলা, তদন্ত আর চারপাশে ছড়ানো সন্দেহ। কেউ কেউ বলছেন — এটা কেবল মাত্র আইন বা ন্যায়ের প্রয়োগ নয়, বরং এটি পরিকল্পিত হয়রানি।
🎯 কে এই “পলাতক দল”?
অধ্যাপক ইউনূস ‘পলাতক দল’ বলতে ঠিক কাদের বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্পষ্ট করেননি। কিন্তু যারা চোখ-কান খোলা রেখে চলেন, তাদের কাছে হয়তো এই ইঙ্গিতটা খুব নতুন নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, আর আগ্রাসী প্রশাসনিক ব্যবস্থার আড়ালে অনেক সময় সত্যকে ঢেকে ফেলার চেষ্টা চলে — এটা ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে।
🧠 “আনসেটেল” করার মানে কী?
“আনসেটেল” — শব্দটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা মানে শুধু মানসিক শান্তি নষ্ট করা নয়, বরং সামাজিকভাবে এক ব্যক্তিকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা, তার ভাবমূর্তি ধ্বংস করা, এবং তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনে বাধ্য করে এমন অবস্থানে দাঁড় করানো যেখানে প্রতিরোধই যেন অপরাধ!
অধ্যাপক ইউনূসের মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তিত্বকে যদি এভাবে টার্গেট করা হয়, তাহলে প্রশ্ন জাগে — এই সমাজে কারো নিরাপত্তা আদৌ আছে কি?
🌐 আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও দেশের ভাবমূর্তি
বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে নোবেল বিজয়ী, মানবাধিকার কর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থা অধ্যাপক ইউনূসের পাশে দাঁড়িয়েছে। তারা একে বিচার ব্যবস্থার অপব্যবহার বলে মন্তব্য করেছে। কিন্তু আমরা কি দেশের ভেতরে বসে তা শুনছি? নাকি চোখ-মুখ বন্ধ করে নিজের মত করে গল্প বানাচ্ছি?
🕊️ শান্ত প্রতিরোধের এক প্রতিচ্ছবি
যেভাবে অধ্যাপক ইউনূস এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। না কোনো আক্রোশ, না উত্তেজনা — তিনি বলছেন খুব ঠান্ডা মাথায়, খুব মানবিক কণ্ঠে। এটিই হয়তো একজন প্রকৃত সমাজকর্মীর প্রতিচ্ছবি।
✍️ উপসংহার
আমরা যখন কোনো বড় ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ শুনি, তখন প্রথমেই উচিত সত্য-মিথ্যা যাচাই করা — বিচার হওয়া উচিত প্রমাণের ভিত্তিতে, পক্ষপাতহীনভাবে। কিন্তু যখন কেউ দাবি করেন যে, তাকে “আনসেটেল” করার জন্য একটি চক্র কাজ করছে — তখন সেটা শুধু একটা অভিযোগ নয়, বরং একটি গণতান্ত্রিক সমাজে অশনি সঙ্কেত।
এই সময়টা আমাদের চোখ খোলা রাখার সময়। শুধু শুনলেই হবে না, বুঝতে হবে — কে কী বলছে এবং কেন বলছে।